টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার নিম্নাঞ্চল, দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। পাহাড়ি ধস এবং সড়ক ডুবে যাওয়ায় খাগড়াছড়ির সাথে সাজেকসহ কয়েকটি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন সাজেক ও দীঘিনালার বাসিন্দারা।
নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দী হাজারো মানুষ
স্থানীয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা, মেরুং এবং মহালছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার রাস্তা এখন পানির নিচে। শত শত ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন। পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুরের মাছ ও ফসলি জমি।
সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, আটকা পড়েছেন পর্যটকরা
খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের একাধিক স্থান ৪-৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালির সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দীঘিনালার প্রধান সড়ক ডুবে থাকায় সাজেকে আটকা পড়েছেন কয়েকশত পর্যটক। এছাড়া রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং খাগড়াছড়ির বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎহীন সাজেক ও দীঘিনালা, মোবাইল নেটওয়ার্কে বিপর্যয়
টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে দীঘিনালা ও সাজেক বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন এবং সঞ্চালন লাইনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে গত ৪-৫ দিন ধরে সাজেক ও দীঘিনালা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনের টাওয়ারগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে, যার ফলে ওইসব এলাকায় তীব্র নেটওয়ার্ক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা বাইরের দুনিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
প্রশাসনের তৎপরতা ও আশ্রয়কেন্দ্র খোলার প্রস্তুতি
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা সদর ও উপজেলাগুলোতে কয়েক ডজন আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের বক্তব্য:
"পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সড়ক থেকে পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত সাজেক রুটে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত সচল করতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে।"
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী আরও ২৪ ঘণ্টা এই অঞ্চলের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।