নিজস্ব প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বদিউল আলম বদি ওরফে বদিউজ্জামানকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১৯টি মামলা রয়েছে। সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে তার গ্রেফতারের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দুর্গাপুর থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বদিউল আলমের বিরুদ্ধে গত প্রায় দুই দশকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার কয়েকটির তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছে।
গ্রেফতার বদি দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়ালের ছোট ভাই। তিনি সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে আলোচনায় থাকা শুটার শামীমেরও ভাই।
সম্প্রতি সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডে বদিউল আলমের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অর্থের জোগানের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, বদিউল আলমকে আপাতত একটি অপহরণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে। সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলুঞ্জিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির। এ ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর এ মামলায় গ্রেফতার দুই সন্দেহভাজন আসামি ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন এবং মো. সাব্বির আহম্মেদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বদিউল আলমের গ্রেফতারের পর স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, অর্থ ও অস্ত্রের জোগানদাতা এবং নেপথ্যের মদদদাতাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে এবং জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।