ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অ্যাম্বুলেন্স চালক সংকট: ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের চরম ভোগান্তি

ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পূর্ববর্তী চালক অন্য কর্মস্থলে বদলি হওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও নতুন কোনো চালক পদায়ন করেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে সরকারি বিপুল ব্যয়ে সংগৃহীত সচল অ্যাম্বুলেন্সটি প্রাঙ্গণেই পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। উপজেলা সদর থেকে জেলা হাসপাতাল কিংবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সরকারি এই কম খরচের অ্যাম্বুলেন্সটিই ছিল স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রধান ভরসা। সরকারি পরিষেবা বন্ধ থাকায় অসহায় পরিবারগুলোকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই সুযোগে স্থানীয় বেসরকারি পরিবহন সিন্ডিকেট জিম্মিদশার সুযোগ নিয়ে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
  • আপলোড তারিখঃ 12-08-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 5718 জন
অ্যাম্বুলেন্স চালক সংকট: ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের চরম ভোগান্তি ছবির ক্যাপশন: একটি পূর্ণাঙ্গ সচল অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ থাকলেও দীর্ঘ দিন ধরে তা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অলস অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
নওগাঁর সীমান্তবর্তী ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও চরম উদাসীনতার মাশুল গুনছেন স্থানীয় প্রান্তিক মানুষ। হাসপাতালে জরুরি ও মুমূর্ষু রোগীদের সময়মতো স্থানান্তরের জন্য সরকারিভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ সচল অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ থাকলেও দীর্ঘ দিন ধরে তা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অলস অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাহনটি যান্ত্রিকভাবে শতভাগ কর্মক্ষম হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র একজন চালকের অভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত রোগীরা সময়মতো উন্নত চিকিৎসা পাওয়া থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পূর্ববর্তী চালক অন্য কর্মস্থলে বদলি হওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও নতুন কোনো চালক পদায়ন করেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে সরকারি বিপুল ব্যয়ে সংগৃহীত সচল অ্যাম্বুলেন্সটি প্রাঙ্গণেই পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।  
উপজেলা সদর থেকে জেলা হাসপাতাল কিংবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সরকারি এই কম খরচের অ্যাম্বুলেন্সটিই ছিল স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রধান ভরসা। সরকারি পরিষেবা বন্ধ থাকায় অসহায় পরিবারগুলোকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই সুযোগে স্থানীয় বেসরকারি পরিবহন সিন্ডিকেট জিম্মিদশার সুযোগ নিয়ে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
ধামইরহাটের সিংহভাগ মানুষ কৃষি ও শ্রমজীবনের ওপর নির্ভরশীল। আকস্মিক চিকিৎসাসংকটে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. মোস্তাকিম হোসেন অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালে সচল গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু চালক না থাকায় মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। চড়া সুদে টাকা বেসরকারি গাড়ি ভাড়া করতে হচ্ছে।
উদ্বেগজনক এই সংকটের বিষয়ে কথা হলে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশীষ কুমার সরকার চালক শূন্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "চালক পদটি শূন্য হওয়ার পরপরই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন চালক পদায়ন করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুনরারম্ভ করার চেষ্টা চলছে।"  
জনস্বার্থ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনরক্ষায় অবিলম্বে এই হাসপাতালে স্থায়ী চালক পদায়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।



নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ my24news

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

জনবান্ধব কাজেই সরকারের অঙ্গীকার: বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী